নতুন বৎসরের তিন প্রতিশ্রুতি ❗

নতুন বৎসরের তিন প্রতিশ্রুতি

নতুন বৎসরের তিন প্রতিশ্রুতি ❗
=============================
নতুন বৎসর সকলের জন্য একপ্রকার উপঢৌকন। যেই উপঢৌকন কোনো ভালো কাজ করার ফলে পাওয়া যায় না। বরং ভালো কাজ করার সুযোগ হিসেবে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, নতুন বৎসর আসলেই আমরা একটা বৃহদাকার সময় এবং সুযোগ পাবো ভালো কাজ করার। কিন্তু আমাদের জীবনে নতুন বৎসর এসে অতিবাহিত হয়ে চলে যাওয়ার পরেও আমরা নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে পারি না। আর তখন সেই নতুন বৎসর যেভাবে আমাদের থেকে চলে যায়। ঠিক একইভাবে চলে যায় একটা লম্বা সুযোগ। তাই আমাদের উচিত নিজেদেরকে প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ করে ভালো কাজে লিপ্ত হওয়া। প্রত্যেকটি ভালো কাজ যেকোনো একটি উদ্দেশ্যে করা হয়। হয়তো ইহকালের লাভের উদ্দেশ্যে। কিংবা পরকালের সুখের জন্য। আর এই দুইটি উদ্দেশ্য একইসাথে রেখে যেসব ভালো কাজ করা যায়, তন্মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ তিনটি ভালো কাজ এখানে যুক্ত করা হলো। আর এই তিনটি যথার্থভাবে করলে আরো অনেকগুলো ভালো কাজ এমনিতেই হয়ে যায়।
১. মুনাফিক এর স্বভাব পরিত্যাগ করা।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খারাপ লোক হলো, মুনাফিকরা। কারণ তারা নিজেদের আত্মপ্রকাশ তথা নিজেদের আসল রূপ লুকিয়ে রাখে। সেইদিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায়, কাফেররাও তাদের চেয়ে ভালো। কেননা কাফেররা নিজেদের আত্মপ্রকাশ তথা নিজেদের আসল রূপ লুকিয়ে রাখে না। তাই তাদের খারাপ রূপটা দেখায় যায়। আর মুনাফিকের আসল চেহারা লুকিয়ে থাকার ফলে তাদের খারাপ রূপটা দেখায় যায় না। শরীয়তের পরিভাষায় মুনাফিক সেই ব্যক্তি, যে বাহিরে নিজেকে মুসলিম বলে প্রকাশ ও দাবী করে, অথচ মনের ভিতর কুফরী ও অবিশ্বাস গোপন করে রাখে।
আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেন,
📖“নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে অবস্থিত হবে, তুমি কখনো তাদের জন্য সাহায্যকারী পাইবে না” (সূরা নিসা ৪: ১৪৫)।
📚হযরত আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মুনাফিকের আলামত তিনটি। আর তা হলো–১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে ২. যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে এবং ৩. আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে”। (বুখারীঃ ৩৩,২৬৮২, ২৭৪৯, ৬০৯৫, মুসলিমঃ ৫৯, তিরমিজীঃ ২৬৩১)
📚রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে সে হবে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। ১. আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে, ২. কথা বললে মিথ্যা বলে, ৩. চুক্তি করলে ভঙ্গ করে এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল গালি দেয়। (বুখারীঃ ২৪৫৯, মুসলিমঃ ৫৮)
২. মিথ্যা বলা বন্ধ করা।
মিথ্যা একটি বড় গুনাহ। মিথ্যা বলাকে শুধুমাত্র বড় গুনাহ বললেও হয়তো খুবই কম হবে। কারণ মিথ্যা হচ্ছে সকল গুনাহের মূল। যে মিথ্যা বলতে পারে, সে অন্যান্য গুনাহও করতে পার। আমাদের উচিত মিথ্যাকে সম্পূর্ণরুপে পরিহার করার চেষ্টা করা। আমরা বড় গুনাহগুলো সবচেয়ে বেশি করছি, মিথ্যা কথা বলার মাধ্যমে। দুনিয়াবী প্রয়োজনে অথবা নিছক অপ্রয়োজনে। আমরা হয়তো অনেকেই জানি না যে, মিথ্যা বলাও মুনাফিক এর স্বভাব।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন–
📖 “তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যা কথা বলে।” (সূরা বাক্বারা ২: ১০)
📖“তোমরা মিথ্যা কথা বর্জন করো।” (সূরা হাজ্জ ২২: ৩০),
📖“নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সঠিক পথ প্রদর্শন করেন না তাকে; যে সীমালঙ্ঘনকারী ও মিথ্যাবাদী।” (সূরা মু’মিন ৪০:২৮)
২. সালাম ও তার উত্তর শুদ্ধভাবে দেওয়া।
সালাম আমাদেরকে অন্যের জন্য শান্তির দূত বানাতে চায়। এবং অন্যকে ভালবাসতে শেখায়। ইসলামী শরীয়তে সালাম কে সুন্নাত হিসেবে অভিবাদন রীতি প্রবর্তন করা হয়েছে। সালামের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভাতৃত্ববোধকে সুদৃঢ় করা যায়। হাদিসে রাসুল থেকে জানা তাই যে, একজন মুসলমানেল উপর অপর মুসলমানের যে ছয়টি অধিকার বা দ্বায়িত্ব রয়েছে। তন্মধ্যে যখন কোনো মুসলমানের সাথে সাক্ষাৎ হয় তখন তাকে সালাম দেওয়া এটিও সেই ছয় অধিকারের তালিকায় রয়েছে। অভিবাদনের এই সংস্কৃতি প্রচলিত হয়েছে আদি পিতা হযরত আদম (আলাইহিস সালাম) থেকে। আর আমাদের প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সকলকে সালাম প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছেন। সালাম দেওয়া সুন্নাত এবং সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। তাই আমাদের উচিত বেশি বেশি সালামের প্রচলন বৃদ্ধি করা।
আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেন,
📖“তোমাদেরকে যখন অভিবাদন করা হয় তখন তোমরা তার চেয়েও উত্তম প্রত্যাভিবাদন করো অথবা তারই অনুরূপ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সর্ব বিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী”। (সূরা নিসা ৪:৮৬)।
📚 হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) হতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে জানতে চেয়ে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল ! ইসলামের মধ্যে কোন কাজটি সর্বোত্তম?” রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “তুমি অপরকে খাবার খাওয়াবে এবং পরিচিত অপরিচিত সবাইকে সালাম দিবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
সালাম দেওয়া ও তার উত্তর দেওয়া শুদ্ধ না হলে সালাম দ্বারা শান্তির প্রভাব সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে না। প্রচলিত রীতি হয়েছে যে, অনেকেই সালাম সঠিক উচ্চারণ করে সালাম প্রদান করে না। 'আসসামাইকুম' বাক্যটিও বলে থাকে। যা মোটেও ভালো নয়। কেননা এই বাক্য দ্বারা অপর ব্যাক্তির ভালো চাওয়া হয়না বরং তার মৃত্যু কামনা করা হয়। আর ইসলামে অন্যের খারাপ কামনা করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই আমরা বলবো, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া-রাহমাতুল্লাহি ওয়া-বারাকাতুহু’। আর তার উত্তর হিসেবে, ‘ওয়া-আলাইকুমুস সালাম ওয়া-রাহমাতুল্লাহি ওয়া-বারাকাতুহু’ বলবো।
এই তিন কাজ যবে করা হবে, বহু পূণ্য আসবে তবে।
নতুন বৎসরের তিন প্রতিশ্রুতি ❗
©✍️ হাফেজ এস. এম. রেজাউল আলম
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন