পোস্টগুলি

সূরা ফাতিহা (কোরআনের ভূমিকা)

ছবি
সূরা ফাতিহা (কোরআনের ভূমিকা) সূরা ফাতিহা (কোরআনের ভূমিকা) === ====== ========= ====== আল্লাহর নামে; আমি করলাম শুরু  দয়া-করুণার, যিনি মহান গুরু। বা, আল্লাহর নামে আরম্ভ; সাথে নিয়ে ভক্তি, দয়া ও করুণায়; যার নেই কমতি। (১)   গুণকীর্তন সবই তারই তরে;         নির্মিত পণ্য সব যারই ভরে। (২)   দয়া ও করুণায়; যার নেই কমতি, (৩)   প্রতিফল দিবসের তিনিই মহান অধিপতি। (৪)   উপাসনা মোরা ; তোমারই করি,         সহায়তা পেতে কেবল, তোমাকেই ধরি। (৫)   মুস্তাক্বিম পথে; মোদের চালাও, (৬)   তাদের সাথে; যাদের অনুগ্রহ বিলাও। (৭)   ক্রোধ করো যাদের; ও পথভ্রষ্টে যারা রয়,        প্রার্থনা মোদের, তাদের সাথে নয়। সূরা ফাতিহা (কোরআনের ভূমিকা) ©✍️ হাফেজ এস. এম. রেজাউল আলম

কথা : যাতে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের পরিচয়

ছবি
কথা : যাতে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের পরিচয় ============================ কথা মানুষের ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। ভাব প্রকাশের এই মাধ্যমটির ব্যবহার বা গুরুত্ব বর্তমানে ক্রমে ক্রমে বৃদ্ধি হচ্ছে। কমিউনিকেশন স্কিল বা কথা বলার দক্ষতা এখন শিক্ষা হতে শুরু করে চাকরী পর্যন্ত, ঘর থেকে শুরু করে ধর্মশালা পর্যন্ত। সর্বক্ষেত্রে যে যত বেশী সুন্দর এবং আকর্ষণীয়ভাবে কথা উপস্থাপন করতে পারে, তার সম্মান, মর্যাদা, প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব ঠিক তত বেশী। আমার ফিলোসফি হলো– কথার সুন্দর উপস্থাপনা দুইভাবে আসে। কিংবা বলতে পারেন, কথা বলার ধরণ বা সৌন্দর্য দুইভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রথমত, জ্ঞানচর্চায় নিবিষ্ট থাকার ফলে। দ্বিতীয়ত, সুচিন্তার অধিকারী বা ভদ্রতার মোড়কে আবৃত থাকার ফলে। আবার দ্বিতীয় দিকটি পরিপূর্ণ হয় একজন সু-ধার্মিক হওয়ার মাধ্যমে। প্রথমটি সুন্দর শব্দ গঠনে মন ও জ্ঞান সহায়তা করে। দ্বিতীয়টি মার্জিত শব্দ গঠনে এবং শব্দ ব্যবহার জায়গা পরিচয় করণে সহায়তা করে। প্রথমটি প্রয়োজনীয় দিক। আর দ্বিতীয়টি অপ্রয়োজনীয় দিক। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় দিকটি শ্রেষ্ঠ। জ্ঞান বিজ্ঞানের বিপ্লবের যুগে কথার সৌন্দর্যের অপ্রয়োজনীয় দিকটি ...

নিভু নিভু প্রদীপ

ছবি
  নিভু নিভু প্রদীপ =================== রামাদান আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে, নিয়ে আসছে অফুরন্ত রহমত, অগণিত কল্যাণের দ্বার। এটি সেই মাস, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত সাজানো থাকে সুযোগের মালায়—গুনাহ মাফ করানোর, আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার, আল্লাহর নৈকট্য লাভের। কিন্তু আমরা কি সত্যিই এই মাসের মূল্য বুঝি? যদি বুঝতাম, তবে কি একে অবহেলায় পার করে দিতাম? রামাদান ঠিক সেই সফরের মতো, যেখানে গন্তব্য জান্নাত, আর পথপ্রদর্শক হলো তাকওয়া। কিন্তু যদি কেউ এ যাত্রায় অলসতা করে, দেরি করে, কিংবা মাঝপথে বিরতি নিয়ে বসে থাকে, তবে সে কি আদৌ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে? প্রতিবারের মতো এবারও হয়তো কেউ কেউ রামাদানকে স্বাগত জানাবে উৎসাহহীন হৃদয়ে, নিয়মের বৃত্তে আবদ্ধ কিছু রুটিনে সীমাবদ্ধ রেখে। অথচ, যে রামাদান আল্লাহর অসীম দয়া, ক্ষমা আর মুক্তির প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসে, সে রামাদানই যদি আমাদের জীবনকে বদলে দিতে না পারে, তাহলে আমাদের চেয়ে হতভাগা আর কে? আমাদের চেয়ে অসফল আর কে আছে?  সফল তারাই, যারা এই পবিত্র মাসের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করে। প্রিয় নবী (ﷺ) এই সফলতাকে দাস মুক্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন। রামাদান আসলে ...

নতুন বছর : শুভ্র আলোর সূচনায়

ছবি
  নতুন বছর : শুভ্র আলোর সূচনায়  =========================== সময়ের চাকা ঘূর্ণায়মান। বছর আসে, বছর যায়। কিন্তু নতুন বছরের প্রারম্ভে মানুষের মনে জাগে নতুন আশা, নতুন উদ্দীপনা। এ যেনো দিগন্তরেখায় উদীয়মান সূর্যের আলোকচ্ছটায় জেগে ওঠা প্রাণের গল্প। তবে নতুন বছরের সূচনা মানেই কি কেবল উৎসব-আয়োজন? নাকি এতে রয়েছে আত্মসমীক্ষা, শুদ্ধিকরণের এক বিশেষ সুযোগ? এই প্রবন্ধে আমরা আলোচনা করব নতুন বছরের করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে, যাতে ব্যক্তি, সমাজ ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ সমন্বিত হয়। • নতুন বছরের অর্থ ও আত্মসমীক্ষা নতুন বছর মানে এক নতুন সূচনা। পেছনের ভুল-ত্রুটি, ব্যর্থতা এবং পাপের হিসাব করে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন: "يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَالْتَنظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ" অনুবাদ:- “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করতে থাকো। আর প্রত্যেক ব্যক্তির লক্ষ্য রাখা উচিত, আগামীকালের জন্যে সে কী প্রেরণ করেছে। আর তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করতে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সেসব কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত যা ত...

অপচয়ের থলি বাড়ানো বন্ধ করো !

ছবি
অপচয়ের থলি বাড়ানো বন্ধ করো  ========================  পানির নল থেকে পানি টিপটিপ করে বয়ে চলেছে, অনিয়ন্ত্রিত, অবিরাম। কোথাও যেন তার বিরাম নেই, বিশ্রাম নেই। আমরা দাঁত মাজার সময় কল ছেড়ে দিই, ভুলে যাই। কিংবা আরও খারাপ অবস্থা, ভুলিই না— বরং আমরা ভাবিই না। ঝরনাধারার মতো সেই পানি তখন ঝরে পড়ে, থেমে থাকে না, আমরাও ফিরে তাকিয়ে দেখি না। কখনো রান্নাঘরে হাঁড়ির নিচে অনির্দিষ্টকাল ধরে আগুন জ্বলছে, অথচ চোখ সেখানে নেই। অগ্নিশিখার নীলচে দহনে রান্না শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু চুলা জ্বলছেই। অসাবধানতাবশত রুমের পাখা ঘুরছে, বাতি জ্বলছে, অথচ ঘর ফাঁকা। রুমে আমরা কেউ নেই। কিন্তু অপচয় রয়ে গেছে। যেন এক নির্বাক আত্মা, আমাদের ছায়ার মতো পিছু নিয়েছে। তারপর আসে খাবার। প্লেটে পড়ে থাকা শেষ কয়েক লোকমা, যা আমাদের উদাসীনতায় ফেলে দেওয়া হয়। ক্ষুধা ফুরিয়েছে, কিন্তু তৃষ্ণা? না, তৃষ্ণা ফুরোয় না, আমাদের অবিবেচনার তৃষ্ণা অক্ষয়। হয়তো এক চুমুক পানি ফেলে দিই অবহেলায়, হয়তো অর্ধেক খাবার জিনিসপত্রের সঙ্গে মিশে যায় আবর্জনার স্তুপে। কিন্তু কী অবলীলায় আমরা ভুলে যাই যে এই প্রতিটি কণা, প্রতিটি ফোঁটা কোনো না কোনো শ্রমের, কারো না কারো প্র...

স্বাধীনতা : মুক্ত আকাশে আত্মার শুদ্ধ উড়ান

ছবি
  স্বাধীনতা : মুক্ত আকাশে আত্মার শুদ্ধ উড়ান ============================ = স্বাধীনতা—এই শব্দটি উচ্চারণেই যেন এক ধরণের প্রশান্তি আছে। মনে হয়, দিগন্ত জোড়া নীল আকাশের নিচে আমি একা দাঁড়িয়ে আছি, এবং আমি যা চাই, তা-ই করতে পারি। কিন্তু এই ‘যা চাই তাই করতে পারা’র মাঝে এক বিপুল বিভ্রান্তি লুকিয়ে থাকে, যা আমাদের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণহীন স্বেচ্ছাচারিতার পথে ঠেলে দেয়। অথচ প্রকৃত স্বাধীনতা কখনোই স্বেচ্ছাচারিতার সমার্থক নয়। বরং স্বাধীনতা হলো—দায়িত্ববোধ ও নৈতিক উপলব্ধির মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করার এক মহান মানবিক ক্ষমতা। আমরা যদি একটি কারাগারের কথা ভাবি, সেখানে বন্দি মানুষটি জানে—তার হাত-পা বাঁধা, তার সময় সীমিত, সে ইচ্ছেমতো চলাফেরা করতে পারে না। এ এক জাগতিক শারীরিক পরাধীনতা। কিন্তু একজন মানুষ মুক্ত বাতাসে হাঁটছে, অথচ সে নিজের লোভ, রাগ, হিংসা, স্বার্থপরতা ও নৈতিক দুর্বলতার শিকলে বাঁধা—সে কি সত্যিকার অর্থে মুক্ত? না, সে বন্দি, অদৃশ্য এক আত্মিক কারাগারে। সুতরাং প্রশ্ন হলো—স্বাধীনতা কী? “ True freedom lies not in boundless choices, but in the conscious balance of responsibility, morality, an...

নতুন বৎসরের সূচনা ❗

ছবি
নতুন বৎসরের সূচনা ======================= প্রতি সেকেন্ডে কতবার আমরা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ করছি, তা আমরা জানি না। এমনকি আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কীভাবে চলে যাচ্ছে, তাও জানি না। আরো জানি না গুনাহের পরিমাণ কতটুকু বেড়েছে। এটাও জানি না সাওয়াবের কাজ কতটুকু করতে পেরেছি‌? আমাদের দৃষ্টি খারাপ। আমাদের চিন্তা খারাপ। আমাদের চলা-ফেরা, উঠা-বসা, খাওয়া-দাওয়া সবই খারাপ। এতোসব খারাপের সংমিশ্রণেই আমরা নিজেদেরকে মানুষ হিসেবে দাবি করি। আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব বলে পরিচয় দিই নিজেকে। শুধু তাই নয়, নিজেদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম ধর্মের অনুসারী হিসেবেও দাবি করি। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি কাজ করে থাকি ভুল কিংবা পাপে ভরা। লজ্জা পায় নিজেদের গুনাহ স্বীকার করতে, অথচ আমরা গুনাহগার। মুনাফিক হিসেবে পরিচিত হতে মনে বাধা সৃষ্টি হয় কিন্তু দিনশেষে আমরাই শ্রেষ্ঠ মুনাফিক। নামাজ এবং ধর্মীয় সকল কার্যাবলী সম্পাদন করতে অপারগতা প্রকাশ করি। কৃপণতা দেখায় সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশংসিত নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তার পবিত্র বংশের...

ছোট কবিতা (১১)

ছবি
  ছোট কবিতা (১১) =========================== পড়বো আমি আজ রাতে, ঝাল খাবো তাই দুই ভাতে; যাবে না মন মন্দ পথে, পড়বো তবে শুদ্ধমতে। ছোট কবিতা (১১) ✍️ হাফেজ এস. এম. রেজাউল আলম