নতুন বছর : শুভ্র আলোর সূচনায়


 নতুন বছর : শুভ্র আলোর সূচনায় 

===========================


সময়ের চাকা ঘূর্ণায়মান। বছর আসে, বছর যায়। কিন্তু নতুন বছরের প্রারম্ভে মানুষের মনে জাগে নতুন আশা, নতুন উদ্দীপনা। এ যেনো দিগন্তরেখায় উদীয়মান সূর্যের আলোকচ্ছটায় জেগে ওঠা প্রাণের গল্প। তবে নতুন বছরের সূচনা মানেই কি কেবল উৎসব-আয়োজন? নাকি এতে রয়েছে আত্মসমীক্ষা, শুদ্ধিকরণের এক বিশেষ সুযোগ? এই প্রবন্ধে আমরা আলোচনা করব নতুন বছরের করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে, যাতে ব্যক্তি, সমাজ ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ সমন্বিত হয়।


• নতুন বছরের অর্থ ও আত্মসমীক্ষা

নতুন বছর মানে এক নতুন সূচনা। পেছনের ভুল-ত্রুটি, ব্যর্থতা এবং পাপের হিসাব করে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:

"يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَالْتَنظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ"

অনুবাদ:- “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করতে থাকো। আর প্রত্যেক ব্যক্তির লক্ষ্য রাখা উচিত, আগামীকালের জন্যে সে কী প্রেরণ করেছে। আর তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করতে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সেসব কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত যা তোমরা করছো।” [ সুরা হাশর, আয়াত : ১৮ ]


তাই নতুন বছরের সূচনা হওয়া উচিত আত্মসমীক্ষার মাধ্যমে। নিজেকে প্রশ্ন করা, “আমি কি করছি? আমার উদ্দেশ্য কি?” এগুলোই প্রকৃত পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।


• করণীয়: শুদ্ধতার পথে যাত্রা

নতুন বছরের শুরুতে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য কিছু করণীয় কাজের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। যেমন:

১. তওবা করা: অতীতের ভুল ও পাপ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:


 > ” كُلُّ ابْنِ آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ “

অনুবাদ: “প্রত্যেক আদমসন্তান ভুল করে, আর উত্তম ভুলকারী সে, যে তওবা করে।” ( জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৯৯)

أخرجه الترمذي في "الجامع"،  أبواب صفة القيامة والرقائق والورع عن رسول الله صلى الله عليه وسلم  باب (4/ 273) رقم (2499).)


২. ইবাদত বৃদ্ধি: নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দান-খয়রাত ও সৎ কাজ বৃদ্ধি করা।


৩. উদ্দেশ্য নির্ধারণ: জীবনের লক্ষ্য পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করা। কীভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় তা পরিকল্পনা করা।


• বর্জনীয়: কৃত্রিম উৎসব ও অপচয়

নববর্ষের আগমনে আমরা প্রায়শই এমন এক উৎসব-উন্মাদনার সাক্ষী হই, যার সঙ্গে আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আত্মিক পরিচয় মেলে না। এই বিশেষ সময়ে অনেকেই এমন কিছু আচরণে লিপ্ত হন, যা ইসলামের আদর্শ থেকে আমাদের বিচ্যুত করে এবং আত্মশুদ্ধির বদলে অন্তরে অন্ধকার ডেকে আনে।


১. অপচয় – একটি নিন্দিত অভ্যাস :-  নতুন বছরকে ঘিরে উৎসবের নামে অর্থ ও সম্পদের অপচয় যেন এক স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। খাবারে বাড়াবাড়ি, সাজসজ্জায় অসংযম, ও বিনা প্রয়োজনে ব্যয়ের হিড়িক—সবই ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ

অনুবাদ: নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা (অপচয়কারীরা) শয়তানদের ভাই। [ সুরা বনী ইসরাইল, আয়াত : ২৭ ]


অর্থাৎ, অপচয় শুধু একটি অভ্যাস নয়, এটি এক আত্মবিনাশী মানসিকতার প্রকাশ, যা মানুষকে ঈমানের পথ থেকে বিচ্যুত করে।

২. অনৈতিক আনন্দ – আত্মার কলুষতা :-  এই সময়ে গান-বাজনা, অশ্লীলতা, মদ্যপান ও অন্যান্য নিষিদ্ধ আমোদ-প্রমোদে অনেকেই মেতে ওঠেন। এসব কর্মকাণ্ড কেবল শরীয়তের সীমা লঙ্ঘন করে না, বরং মানুষের চারিত্রিক অবক্ষয়কে আরও ত্বরান্বিত করে। ইসলামী জীবনে প্রকৃত আনন্দ হলো সেই, যা আত্মাকে পবিত্র করে, অন্তরকে আল্লাহর স্মরণে উদ্বেলিত করে।

৩. আত্মতুষ্টি – সচেতনতার প্রতিবন্ধক :- বছরের শেষে কেউ কেউ পূর্ববর্তী সাফল্যে এমনভাবে গর্বিত হয়ে ওঠেন যে, নিজেদের অক্ষমতা ও আল্লাহর করুণার প্রয়োজনীয়তাই ভুলে বসেন। অথচ ঈমানদার ব্যক্তি সর্বদা আত্মসমালোচনায় ব্যস্ত থাকেন এবং ভবিষ্যতের প্রতিটি দিনকে নিজের জন্য উন্নতির একটি নতুন সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন।


হে পরম করুণাময়! এ নবাগত বছরটিকে করো অতীতের চেয়েও কল্যাণময়, শান্তিময় ও বরকতময়।



• জীবনের সঙ্গে তুলনা

নতুন বছরকে একটি সাদা খাতার সঙ্গে তুলনা করা যায়। গত বছরের খাতায় হয়তো ভুলভ্রান্তি ছিল, কিন্তু নতুন বছর আপনাকে সুযোগ দেয় সঠিকভাবে খাতা পূরণ করার। নববর্ষ মানে অন্ধকারে আলো জ্বালানোর এক প্রতিশ্রুতি।

একবার এক বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, "আপনার জীবনে সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত কোনটি?" তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "যখন আমি আমার প্রভুর সামনে দাঁড়াই এবং কেঁদে তাঁকে ডাকি।" নতুন বছরের শুরু এমনই এক মুহূর্ত হতে পারে, যখন আমরা আল্লাহর দরবারে ফিরে যাই এবং তাঁর করুণা প্রার্থনা করি।


• বিন্দু বিন্দু শুভ্রতার আলো 

নতুন বছরের সূচনা হলো এক নতুন যাত্রার প্রারম্ভ। এই সময়ে যদি আমরা কিছু এটোমিক হ্যাবিট বা ক্ষুদ্র অভ্যাস গঠন করি, তা আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির পথে আমাদের পথপ্রদর্শক হতে পারে। চলুন, আলোচনা করি এমন কিছু এটোমিক হ্যাবিটের বিষয়ে যা আমরা নতুন বছরের শুরুতে গ্রহণ করতে পারি:


# ধর্মীয় জীবনে উপকারিতা:-

১. নামাজে অতিরিক্ত মনোযোগ

প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে পড়ার অভ্যাস গঠন করা। এটি শুধুমাত্র ইসলামী কর্তব্য নয়, বরং আমাদের আত্মার প্রশান্তি ও শান্তির জন্য অপরিহার্য। হাদিসে এসেছে:

وَالصَّدَقَةُ  بُرْهَانٌ  وَالصَّبْرُ  ضِيَاءٌ  وَالْقُرْآنُ  حُجَّةٌ  لَكَ  أَوْ  عَلَيْكَ  كُلُّ  النَّاسِ  يَغْدُو  فَبَائِعٌ  نَفْسَهُ  فَمُعْتِقُهَا  أَوْ  مُوبِقُهَا  ‏"‏  ‏

অনুবাদ: ‘সালাত’ হচ্ছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি। ‘সদাকাহ্’ হচ্ছে দলীল। ‘ধৈর্য’ হচ্ছে জ্যোতির্ময়। আর ‘আল কুরআন’ হবে তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ। বস্তুতঃ সকল মানুষই প্রত্যেক ভোরে নিজেকে ‘আমালের বিনিময়ে বিক্রি করে। তার ‘আমাল দ্বারা সে নিজেকে (আল্লাহর ‘আযাব থেকে) মুক্ত করে অথবা সে তার নিজের ধ্বংস সাধন করে। [ সহিহ মুসলিম, হাদিস, ৪২২ ]

আমাদের প্রতিদিনের নামাজের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি করা, বিশেষ করে ফজর ও ইশা নামাজে সময় মতো উপস্থিত থাকা, আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে আসবে।


২. তিলাওয়াতের অভ্যাস

প্রতিদিন কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াত করা। ছোট্ট একটি অভ্যাস, যেমন প্রতিদিন ১ পৃষ্ঠা কুরআন তিলাওয়াত করা, আমাদের জীবনে আল্লাহর রহমত আনতে পারে।

"إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ"

অর্থ: নিশ্চয়ই এ কুরআন (গন্তব্যের দিকে) পথ নির্দেশ করে, যা সবচেয়ে সঠিক। আর সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণকে এ বিষয়ের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার। [ সুরা বনী ইসরাইল, আয়াত : ৯ ]


৩. তওবা ও ইস্তেগফার

প্রতিদিন অন্তত তিনবার তওবা ও ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করার অভ্যাস গঠন করা। নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:

" لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ حِينَ يَتُوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ عَلَى رَاحِلَتِهِ بِأَرْضِ فَلَاةٍ، فَانْفَلَتَتْ مِنْهُ وَعَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ، فَأَيِسَ مِنْهَا، فَأَتَى شَجَرَةً، فَاضْطَجَعَ فِي ظِلِّهَا قَدْ أَيِسَ مِنْ رَاحِلَتِهِ، فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ إِذَا هُوَ بِهَا قَائِمَةً عِنْدَهُ، فَأَخَذَ بِخِطَامِهَا، ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ : اللَّهُمَّ أَنْتَ عَبْدِي وَأَنَا رَبُّكَ. أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ ".

অনুবাদ:  আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মু’মিন বান্দার তাওবার কারণে ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক আনন্দিত হন, যে লোক ছায়া-পানিহীন আশঙ্কাপূর্ণ বিজন মাঠে ঘুমিয়ে পড়ে এবং তার সাথে থাকে খাদ্য পানীয় সহ একটি সওয়ারী। এরপর ঘুম হতে সজাগ হয়ে দেখে যে, সওয়ারী কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। তারপর সে সেটি খুঁজতে খুঁজতে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ল এবং বলে, আমি আমার পূর্বের জায়গায় গিয়ে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে মারা যাব। (এ কথা বলে) সে মৃত্যুর জন্য বাহুতে মাথা রাখল। কিছুক্ষণ পর জাগ্রত হয়ে সে দেখল, পানাহার সামগ্রী বহনকারী সওয়ারীটি তার কাছে। (সওয়ারী এবং পানাহার সামগ্রী পেয়ে) লোকটি যে পরিমাণ আনন্দিত হয়, মু’মিন বান্দার তাওবার কারণে আল্লাহ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। [ সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৪৭ ]

أخرجه مسلم في "صحيحه"، كتاب : التوبة  باب  في الحض على التوبة والفرح بها (8/ 93) رقم (2747).


# সামাজিক জীবনে উপকারিতা:-

১. স্বাস্থ্যকর সামাজিক সম্পর্ক গঠন

প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা, সমাজে সৎ কাজ প্রচার করা। আল্লাহ বলেন:

"وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا"

অনুবাদ: এবং মানুষের সাথে (কোমলতা ও প্রফুল্ল ভঙ্গিতে) সদালাপ করো। [ সূরা বাকারা, আয়াত : ৮৩ ]


আমাদের প্রতিদিনের কথাবার্তায় সৌজন্য ও সন্মান বজায় রাখার মাধ্যমে আমরা সমাজে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি।


২. বিনয় ও দানশীলতা

প্রতিদিন কিছু না কিছু দান করা, তা ছোট বা বড় হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

" وَ مَا تُنۡفِقُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ فَلِاَنۡفُسِکُمۡ ؕ وَ مَا تُنۡفِقُوۡنَ اِلَّا ابۡتِغَآءَ وَجۡہِ اللّٰہِ ؕ وَ مَا تُنۡفِقُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ یُّوَفَّ اِلَیۡکُمۡ وَ اَنۡتُمۡ لَا تُظۡلَمُوۡنَ "

অনুবাদ: তোমরা যে সম্পদই ব্যয় করো তা নিজেদের উপকারের জন্যেই করো; এবং আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি ব্যতীত তোমাদের ব্যয় করা সমীচিনই নয়। তোমরা যে সম্পদই ব্যয় করবে তোমাদেরকে (তার প্রতিদান) পুরোপুরি দেয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি কোনো অন্যায় করা হবে না। [সূরা বাকারা, আয়াত: ২৭২]


দানের অভ্যাস আমাদের হৃদয়ে বিনয় ও সহানুভূতি গড়ে তুলবে, সমাজে এক ধরনের ঐক্য ও শান্তি বজায় রাখবে।


৩. প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা

প্রতিদিন একটি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো, একে অপরকে প্রশংসা করা। এটি সামাজিক সম্পর্কের গুণগত মান বাড়াবে এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করবে।


# ব্যক্তিগত জীবনে উপকারিতা:-

১. সকালে কিছু সময় মেডিটেশন বা জিকির

দিনের শুরুতে কিছু সময় নিজের মনকে শান্ত রাখার জন্য মেডিটেশন বা আল্লাহর জিকির করা। এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আমরা কুরআনে পাই—

"اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ تَطۡمَئِنُّ قُلُوۡبُہُمۡ بِذِکۡرِ اللّٰہِ ؕ اَلَا بِذِکۡرِ اللّٰہِ تَطۡمَئِنُّ الۡقُلُوۡبُ"

অনুবাদ:- যারা বিশ্বাস রাখে এবং যাদের অন্তর আল্লাহ্‌র যিকিরের মাধ্যমে প্রশান্ত হয়। জেনে রেখো, আল্লাহ্‌র যিকিরের মাধ্যমেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে। [ সুরা রা'দ, আয়াত: ২৮]


২. শারীরিক ব্যায়াম বা হাঁটা

প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা। এটি শুধু শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করবে, বরং মানসিক চাপও কমাবে। নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শারীরিক সুস্থতা নিয়ে বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন।


৩. কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতি

কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের অভ্যাস গঠন করা। আল্লাহ বলেন:

"وَقُلْ اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ"

অনুবাদ:- এবং আপনি বলুন, ‘কাজ করো। এখন তোমাদের কাজ দেখবেন আল্লাহ্‌ ও তার রসূল এবং মুসলমানগণ। [ সুরা তাওবা, আয়াত : ১০৫ ]


• উপসংহার

নতুন বছর আমাদের কাছে কেবল আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে না, এটি আমাদের আত্মসমীক্ষা ও উন্নতির জন্য একটি মহান সুযোগ। করণীয় হলো আল্লাহর পথে চলা, আত্মশুদ্ধি এবং সৎ কাজের প্রতিযোগিতা করা। আর বর্জনীয় হলো অশ্লীলতা, অপচয় ও গুনাহের কাজ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন।


নতুন বছরের সূচনা: করণীয় ও বর্জনীয়

© হাফেজ এস এম রেজাউল আলম

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নবীর দরুদ মু’জেযা

পাঠ্যবই এর আদর্শ পাঠক'

হাবিব প্রকাশন সম্পর্কে কথাকিছু

নতুন বৎসরের তিন প্রতিশ্রুতি ❗

সূরা ফাতিহা (কোরআনের ভূমিকা)

হিফজরত ও হিফজ সমাপ্তকৃত ভাইদের জন্য