কথা : যাতে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের পরিচয়
কথা : যাতে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের পরিচয়
============================
আমার ফিলোসফি হলো– কথার সুন্দর উপস্থাপনা দুইভাবে আসে। কিংবা বলতে পারেন, কথা বলার ধরণ বা সৌন্দর্য দুইভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রথমত, জ্ঞানচর্চায় নিবিষ্ট থাকার ফলে। দ্বিতীয়ত, সুচিন্তার অধিকারী বা ভদ্রতার মোড়কে আবৃত থাকার ফলে। আবার দ্বিতীয় দিকটি পরিপূর্ণ হয় একজন সু-ধার্মিক হওয়ার মাধ্যমে।
প্রথমটি সুন্দর শব্দ গঠনে মন ও জ্ঞান সহায়তা করে। দ্বিতীয়টি মার্জিত শব্দ গঠনে এবং শব্দ ব্যবহার জায়গা পরিচয় করণে সহায়তা করে। প্রথমটি প্রয়োজনীয় দিক। আর দ্বিতীয়টি অপ্রয়োজনীয় দিক। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় দিকটি শ্রেষ্ঠ।
জ্ঞান বিজ্ঞানের বিপ্লবের যুগে কথার সৌন্দর্যের অপ্রয়োজনীয় দিকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এই অপ্রয়োজনীয় দিকটি প্রয়োজনীয় দিকের পরিপূর্ণতা ঘটায়। আমার ফিলোসফি টা এই ক্ষেত্রে কিছুটা প্রমথ চৌধুরীর শিক্ষার উদাহরণ থেকে আলোড়িত বলতে পারেন।
আপনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বক্তা, প্রকৌশলী, ডাক্তার, পুলিশ, যেই হোন না কেন আপনার কথার সৌন্দর্যতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন অনেক বেশী। একটি প্রবাদ বা কথা প্রচলিত আছে। তা হলো– ব্যবহার তার বংশের পরিচয়। ব্যবহার যদি বংশ পরিচিতির অন্যতম মাধ্যম হয়, তবে কথা ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে।
পরিশেষে প্রিয় নবিজান এর একটি হাদিস যুক্ত করে লিখাকে পরিপূর্ণতা দিয়ে ইতি টানতে চাই।
হযরত আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয় বান্দা কখনও আল্লাহ্র সন্তুষ্টির কোন কথা বলে অথচ সে কথা সম্পর্কে তার চেতনা নেই। কিন্তু এ কথার দ্বারা আল্লাহ্ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আবার বান্দা কখনও আল্লাহ্র অসন্তুষ্টির কথা বলে ফেলে যার পরিণতি সম্পর্কে তার ধারণা নেই, অথচ সে কথার কারণে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
[৬৪৭৭; মুসলিম ৫৩/৬, হাঃ ২৯৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৩৪) সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৪৭৮]
আসুন ভাষার মাধ্যমে মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকি। এবং ভাষার মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখি।
© Syed Rezaul Alam Mashrafi ( সৈয়দ রেজাউল আলম মাশরাফী )
©This Picture was made by নকশাকার-Nakshakar

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন