'পাঠ্যবই'। এই শব্দটি শুনলেই বা কোথাও দেখলে আমরা সাধারণত যে ক্যাটাগরির বই মনে করে থাকি, তাহলো স্কুল অথবা মাদ্রাসার বই। যেগুলো শ্রেণিকক্ষে পড়ানো হয়। কিন্তু এগুলোই কি একজন মানুষের জন্য পাঠ্যবই ? আমি বলবো, না! এই বইগুলো ছাড়াও যে বইগুলো রয়েছে, তা আসল পাঠ্যবই। আর আমার ভাবনায় যেহেতু এই বইগুলো আসল পাঠ্যবই। তাই আমি পাঠ্যবই শব্দের অর্থ মনে করি, 'পড়ার উপযোগী বই'। যদি জানতে চাওয়া হয় কেনো? আমি বলব, সেই বইগুলোতে (অর্থাৎ শ্রেণিকক্ষের নির্ধারিত ও নির্বাচিত বই) তেমন কিছু শিখতে পারি না। কারণ; একটি রোবট কে যেভাবে কোনো কাজ করার জন্য নির্ধারিত করে দেওয়া হয়, ঠিক একইভাবে আমাদেরও নির্ধারিত করে দেওয়া হয় নির্দিষ্ট কিছু বিষয় জানার জন্য। আর এই নির্দিষ্ট বিষয়গুলো যখন আমরা জানার চেষ্টা করি তখন আমাদের অনেক গভীরেও মাঝে-মাঝে যেতে ইচ্ছা করে। যার অনেকগুলো বিষয় ঐ শ্রেণীর বইগুলো তে না থাকায় আমরা জানতে চাইলেও আমরা পারি না। নামাজ এর সময় হলে ৩-৪মিনিট পূর্বে লালবাতি জ্বালিয়ে যেভাবে সুন্নত পড়তে নিষেধ করা হয়। অথবা ট্রাফিক সিগন্যাল এর লালবাতি উদিত হলে যেভাবে গাড়িকে থেমে থাকতে হয়। তারপর সবুজ...
হাবিব প্রকাশন সম্পর্কে কথাকিছু ==== ====== ===== ========= পৃথিবী এটি একপ্রকার বিস্তৃত ঘর। আর আমরা এই বিস্তৃত ঘরে বসবাস করি। মানুষ ছাড়াও বসবাস করে অনেক পশু। তবে সকল মানুষ সৃষ্টিগতভাবে মানুষ হলেও অনেক সময় তাদের শুধুমাত্র পশু ছাড়া অন্য কিছু বলা ভালো হবে না। কারণ একজন মানুষ আর একজন পশুর মাঝে পার্থক্য হলো জ্ঞানের। যা মানুষের কাছে থাকে, কিন্তু পশুর কাছে নয়। তাই মূলনীতির মানুষ তথা আদর্শ মানুষ হতে আমাদের প্রয়োজন জ্ঞানের। জ্ঞান অর্জনের অন্যতম নাম হলো জানা। জানার সমাধান আছে বিভিন্ন ধরনের। কেউ জানে শোনার মাধ্যমে তথা শ্রবণ করার দ্বারা। কেউ জানে ইশারার মাধ্যমে তথা ইশারা ইঙ্গিতে অবহিত হওয়ার দ্বারা। কেউ জানে পড়ার মাধ্যমে তথা পঠন বা অধ্যয়ন করার দ্বারা। তবে পড়ার মাধ্যমেই মানুষ বেশি উপকৃত হয়। উপকার করার জন্য কাউকে তো অবশ্যই সেই দ্বায়িত্ব নিতে হয়। আর সেই দ্বায়িত্ব পালন করেন লেখকগণ। সমাধান করেন তার কলমের মাধ্যমে। লেখকগণ তার কলমের কালি দিয়ে ফুঁটিয়ে তোলেন, তাদের মনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা জানার সমাধানের সকল চিন্তা-ভাবনা আর খুঁটিনাটি। চিন্তা-ভাবনা এবং খুঁটিনাটি সর্বদা একই পরিসরের হয় না। কখ...
নতুন বৎসরের তিন প্রতিশ্রুতি নতুন বৎসরের তিন প্রতিশ্রুতি ❗ ============================= নতুন বৎসর সকলের জন্য একপ্রকার উপঢৌকন। যেই উপঢৌকন কোনো ভালো কাজ করার ফলে পাওয়া যায় না। বরং ভালো কাজ করার সুযোগ হিসেবে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, নতুন বৎসর আসলেই আমরা একটা বৃহদাকার সময় এবং সুযোগ পাবো ভালো কাজ করার। কিন্তু আমাদের জীবনে নতুন বৎসর এসে অতিবাহিত হয়ে চলে যাওয়ার পরেও আমরা নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে পারি না। আর তখন সেই নতুন বৎসর যেভাবে আমাদের থেকে চলে যায়। ঠিক একইভাবে চলে যায় একটা লম্বা সুযোগ। তাই আমাদের উচিত নিজেদেরকে প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ করে ভালো কাজে লিপ্ত হওয়া। প্রত্যেকটি ভালো কাজ যেকোনো একটি উদ্দেশ্যে করা হয়। হয়তো ইহকালের লাভের উদ্দেশ্যে। কিংবা পরকালের সুখের জন্য। আর এই দুইটি উদ্দেশ্য একইসাথে রেখে যেসব ভালো কাজ করা যায়, তন্মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ তিনটি ভালো কাজ এখানে যুক্ত করা হলো। আর এই তিনটি যথার্থভাবে করলে আরো অনেকগুলো ভালো কাজ এমনিতেই হয়ে যায়। ১. মুনাফিক এর স্বভাব পরিত্যাগ করা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খারাপ লোক হলো, মুনাফিকরা। কারণ তারা নিজেদের আত্মপ্রকাশ তথা নিজেদের আসল রূপ লুকিয়ে র...
হিফজরত ও হিফজ সমাপ্তকৃত ভাইদের জন্য হিফজরত ও হিফজ সমাপ্তকৃত ভাইদের জন্য ============================== বিশ্বখ্যাত হাফেজ-ক্বারীদের তিলাওয়াত শুনুন। দৈনিক অন্তত ০২-পারা তিলাওয়াত করুন। যাতে একমাসে দুইবার সম্পূর্ণ করতে পারেন। একমাসে দুইবার হলে, বারো মাসে হবে ২×১২= ২৪ বার। এবং ২৪ বার × ৫ বছর = ১২০ বার। আর আপনার অন্য পড়া না থাকলে, আরো বেশি তিলাওয়াত করুন। তিলাওয়াতকৃত পারা থেকে প্রতিদিন সর্বনিম্ন ১-পারা নামাজে তিলাওয়াত করুন। নিজ থেকে বেশি বেশি মেহনত (পরিশ্রম, চেষ্টা)করুন। প্রতিদিনের অবসর সময়ে অপর ছাত্র ভাইয়ের সাথে মিলে পরস্পর প্রশ্ন পরুন বিভিন্নভাবে। এবং প্রশ্ন করুন বিচারকের মতো। চলার পথে, উঠা-বসায় তথা সর্বদা তিলাওয়াত করুন। যেখানে কুরআন তিলাওয়াত শরীয়তে বাধা নেই সেই স্থানে। উস্তাদ তথা শিক্ষকের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী চলুন। গুনাহর কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। এবং সাওয়াবের কাজ করুন, আক্বিদা ঠিক করে। তাহাজ্জুদের নামাজসহ বিভিন্ন নফল নামাজ আদায় করুন। ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত এর পাশাপাশি। আল্লাহর কাছে খুব বেশি দোয়া করুন। আর সর্বদা প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র উপর এবং তার ব...
নতুন বছর : শুভ্র আলোর সূচনায় =========================== সময়ের চাকা ঘূর্ণায়মান। বছর আসে, বছর যায়। কিন্তু নতুন বছরের প্রারম্ভে মানুষের মনে জাগে নতুন আশা, নতুন উদ্দীপনা। এ যেনো দিগন্তরেখায় উদীয়মান সূর্যের আলোকচ্ছটায় জেগে ওঠা প্রাণের গল্প। তবে নতুন বছরের সূচনা মানেই কি কেবল উৎসব-আয়োজন? নাকি এতে রয়েছে আত্মসমীক্ষা, শুদ্ধিকরণের এক বিশেষ সুযোগ? এই প্রবন্ধে আমরা আলোচনা করব নতুন বছরের করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে, যাতে ব্যক্তি, সমাজ ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ সমন্বিত হয়। • নতুন বছরের অর্থ ও আত্মসমীক্ষা নতুন বছর মানে এক নতুন সূচনা। পেছনের ভুল-ত্রুটি, ব্যর্থতা এবং পাপের হিসাব করে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন: "يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَالْتَنظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ" অনুবাদ:- “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করতে থাকো। আর প্রত্যেক ব্যক্তির লক্ষ্য রাখা উচিত, আগামীকালের জন্যে সে কী প্রেরণ করেছে। আর তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করতে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সেসব কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত যা ত...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন