একজন গণিতবিদ নিয়ে কথা


 একজন গণিতবিদ নিয়ে কথা
======================

গণিত এটি আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আমি মনে করি। তবে অনেকেই তা বিশ্বাসও করেন। যদিও আমিও করি। কথা হলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীর পরিবর্তনে বইয়ের মধ্যে গণিত এর কিছু নতুন নতুন রূপ আসে। যেমন:- সূচক ও লগারিদম, ত্রিকোণমিতিক অনুপাত, সসীম ধারা, বাস্তব সংখ্যা, ইত্যাদি। 


গণিতের বিভিন্ন রূপগুলোর সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকার পরও এখনো পর্যন্ত গণিতকে আপন করে ভাবতে পারিনি। তবে কিছু গণিতবিদকে খুবই ভালোবাসি। 


কোন্ গণিতবিদদের ভালোবাসি তার লিস্ট আমি দিতে পারবো না। তবে একজন কে নিয়ে এখন কথা বলবো। তার আগে একটা বিষয় নিয়ে জানতে চাই। তা হলো– আচ্ছা আপনি জীবনে যদি ২০-৪০ বৎসরের হয়, তাহলে আপনি এই কম বয়সে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যম ছাড়া পৃথিবীকে ভালো কিছু দিয়ে কতটুকু পরিচয় লাভ করতে পারবেন ? এই উত্তরটি অবশ্যই জানাবেন। 


যার কথা বলছি, তিনি আর কেউ নন। তিনি হলেন, ভারতের ‘শ্রীনিবাস রামানুজান (Sree Ramanujan)’। যার জন্ম ১৮৮৭ সালের ২২ ডিসেম্বর আর মৃত্যু ১৯২০ সালের ২৬ এপ্রিল। তিনি পাঁচ বছর বয়সে তিনি গ্রামের স্কুলে ভর্তি হন। আর প্রাথমিক স্তরে বৃত্তি পরীক্ষায় সমস্ত জেলার মধ্যে তিনিই প্রথম হন। তার পাণ্ডিত্যের কথা যদি বলতে যাই, গণিতের প্রতি আগ্রহ থাকার কারণে ছোট থাকা অবস্থায় তিনি বি.এ ক্লাসের অঙ্ক করে ফেলতেন। ‘জর্জ স্কোবসিজ’ এর রচিত 'Synopsis of Elementary Result in Pure and applied Mathematics’ নামক একটি বই রয়েছে। যেই বইয়ে মোট অঙ্ক ছিলো প্রায় ৬১৬টি , যা তিনি (শ্রীনিবাস রামানুজান) নতুন নতুন নিয়ম বের করে সমাধান করে ফেলেছিলেন। স্কুলে থাকাতেই π এর মান এবং 2 এর বর্গমূল দশমিকের পর যত ঘর পর্যন্ত খুশি বলে বন্ধুদের অবাক করে দিতেন। 


রামানুজানের অনস্বীকার্য অবদান গুলোর মধ্যে রয়েছে– গাণিতিক বিশ্লেষণ, সংখ্যাতত্ত্ব, এবং বীজগণিত। এসবের মধ্যে তার অবদানগুলো কখনো ভুলে যাওয়ার মতো নয়। তিনি Identities এবং Equation এর উপর 3900টি সংখ্যা প্রকাশ করেন। যার মধ্যে অধিকাংশই পরে সত্য প্রমাণিত হয়। 


বিজ্ঞান আর গণিত সম্পর্কে যাদের অনেক তথ্য জানা আছে কিংবা বিজ্ঞান আর গণিতের মধ্যে যারা অধিক পারদর্শী তারা অবশ্যই জানে 'রয়েল সোসাইটি' এবং 'ট্রিনিটি কলেজ' সম্পর্কে। ভারতের ‘শ্রীনিবাস রামানুজান (Sree Ramanujan)’ ছিলেন 'রয়েল সোসাইটি' এবং 'ট্রিনিটি কলেজ' এর ফেলো। শুধুমাত্র তাই নয়, তার রচিত 'রামানুজান জার্নাল' একটি বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা। যা বর্তমানেও গণিতের বিভিন্ন উন্নয়নে অবদান রাখছে।


আর তাই এই মানুষটিকে আমি খুবই পছন্দ করি। আপনি নিজেকে প্রডাক্টিভ করে তুলতে, এইরকম বিজ্ঞ ব্যক্তিদের জীবনী পড়ে মোটিভেট হতে পারেন। পড়তে পারেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটির জীবনীও।


‘সফল ব্যক্তিদের জীবনী পড়ুন, নিজেকে আরো প্রডাক্টিভ করুন।’


একজন গণিতবিদ নিয়ে কথা 
|| পর্ব: ০১ ||

© ✍️ হাফেজ এস. এম. রেজাউল আলম 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নবীর দরুদ মু’জেযা

পাঠ্যবই এর আদর্শ পাঠক'

হাবিব প্রকাশন সম্পর্কে কথাকিছু

নতুন বৎসরের তিন প্রতিশ্রুতি ❗

সূরা ফাতিহা (কোরআনের ভূমিকা)

হিফজরত ও হিফজ সমাপ্তকৃত ভাইদের জন্য

নতুন বছর : শুভ্র আলোর সূচনায়